অনলাইন ডেস্ক। কুমিল্লা প্রতিনিধি :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) নতুন শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার এক অনন্য মিলনস্থল হিসেবে ধরা দিয়েছে। কবি জসীম উদ্দীনের কবিতার মতোই—মানুষের অদম্য ইচ্ছা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জনের প্রতিচ্ছবি যেন ফুটে উঠেছে নবীনদের অনুভূতিতে।
লাল মাটির পাহাড়ি ভূমিতে প্রায় ২৪৪ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই ক্যাম্পাস প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। সবুজে ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও সৃজনশীলতায় অনুপ্রাণিত করে। এ কারণেই অনেকে ভালোবেসে একে “লাল মাটির ক্যাম্পাস” নামে অভিহিত করেন।
২০০৬ সালে মাত্র ৭টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১৯টি বিভাগ ও ৬টি অনুষদ রয়েছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা শিক্ষা, সামাজিক বিজ্ঞান ও মানবিক শাখার সমন্বয়ে এখানে গড়ে উঠেছে একটি সমৃদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থা।
গত ১২ এপ্রিল ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মাধ্যমে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ করেছে। তাদের চোখে এখন নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা এবং নিজেদের গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয়।
নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কুবির পরিবেশ, শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং র্যাগিংমুক্ত পরিবেশে সন্তুষ্ট। গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত রায় জানান, ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ ও শিক্ষকদের আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে। নিজের পরিশ্রমের ফল হিসেবে এখানে ভর্তি হতে পেরে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী রাববানী হোসেন বলেন, দূর জেলা থেকে আসলেও ক্যাম্পাসে এসে তিনি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। সিনিয়রদের সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তাকে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।
ইংরেজি বিভাগের অর্পিতা সাহা জানান, ক্যাম্পাসের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি মনে করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সৌন্দর্য তার পরিবেশ ও সংস্কৃতিতে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ছোটবেলা থেকেই কুবিতে পড়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন এবং অন্যদেরও স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় নবীনদের কাছে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—বরং স্বপ্ন গড়ার এক উজ্জ্বল ঠিকানা হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে।