অনলাইন ডেস্ক নিউজ:
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!নওগাঁ জেলার ঐতিহ্যবাহী পত্নীতলা উপজেলা বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন থানাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ব্রিটিশ শাসনামলের শুরুতে আধুনিক পুলিশিং ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই থানার যাত্রা শুরু হয় বলে জানা যায়।
ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ভারতবর্ষে ব্রিটিশ প্রশাসন পুলিশি ব্যবস্থার কাঠামো গড়ে তুলতে ১৭৯২ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অধীনে থানাভিত্তিক প্রশাসন চালু করে। সেই ধারাবাহিকতায় ১৮০৭ সালের দিকে নওগাঁ জেলার অন্তর্গত এই পত্নীতলা থানা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে এটি অবিভক্ত ভারতের পশ্চিম দিনাজপুর জেলার অংশ হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করত।
পরবর্তীতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ১৯১১-১২ সালের দিকে থানার উত্তর-পূর্ব অংশ নিয়ে ধামইরহাট থানা গঠিত হয়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ অনুযায়ী এটি বগুড়া জেলার অন্তর্ভুক্ত হয় এবং পরে ১৯৫০ সালে নওগাঁ মহকুমার অধীনে আসে। ১৯৮৩ সালে থানাভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে পত্নীতলা উপজেলা গঠিত হয়।
বর্তমানে এই উপজেলা ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, যেখানে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে নজিপুর শহরের আধুনিক রূপ।
ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিবর দিঘী ও দিব্যক জয়স্তম্ভ এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ, যা কৈবর্ত বিদ্রোহের স্মৃতিবাহী। একাদশ শতাব্দীতে পাল শাসনামলে সংঘটিত এই গণঅভ্যুত্থান বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।
সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী এই এলাকায় প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষের বসবাস, যার মধ্যে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠী রয়েছে। পাশাপাশি ওরাওঁ, সাঁওতাল ও মুন্ডা সম্প্রদায়ের মতো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষও এখানে বসবাস করেন।
বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসন পূর্বের তুলনায় এখন আরও কঠোর ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
নওগাঁ জেলা তথা পত্নীতলা থানা বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আরও জোরালো ভূমিকা রেখে চলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ক্রাইম ওয়াচ ২৪ বিডি ডেস্ক 










