ত্রিশালে এলজিইডির সড়কে ‘পুকুর চুরি’র অভিযোগ, নিম্নমানের কাজে ক্ষোভ
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে চলমান
পোড়াবাড়ি সড়ক থেকে অলহরী ব্রিজ হয়ে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার বেজ স্তরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে এ স্তরে তৃতীয় শ্রেণির ইটের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহার করে তার ওপর কিছু ভালো খোয়া ছিটিয়ে পিষে দেওয়া হচ্ছে। শুরু থেকেই সাব-বেজ ও বেজ স্তরে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকৌশল দপ্তরের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে এসব অনিয়ম হচ্ছে। অভিযোগ উঠলেই সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রেখে নিম্নমানের কিছু উপকরণ সরিয়ে আবারও একইভাবে কাজ চালানো হচ্ছে।
উপজেলার পোড়াবাড়ি সড়ক থেকে অলহরী ব্রিজ হয়ে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার সড়কের উন্নয়নকাজ চলছে। প্রকল্পে সাব-বেজ স্তরে নির্ধারিত অনুপাত না মেনে অতিরিক্ত বালু ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের বাধার মুখে কিছু নিম্নমানের উপকরণ সরানো হলেও পরে আবার একইভাবে কাজ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। বেজ স্তরেও একই অনিয়ম হওয়ায় পুরো সড়কের গুণগত মান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নাদিরুজ্জামান লিটন বলেন, “এটা উন্নয়ন নয়, উন্নয়নের নামে লুটপাট। নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ কর্মকর্তারা সামনে থাকলেও কিছু বলছেন না।”
এবিএস কামাল আহমেদ বলেন, “আমরা প্রতিবাদ করলে বলা হয় সব ঠিক আছে। বাস্তবে কোনো নিয়ম মানা হচ্ছে না। এই রাস্তা এক মৌসুমও টিকবে না।”
কামরুল ইসলাম বলেন, “আমরা স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে কিছু মালামাল সরিয়ে নেয়, পরক্ষণেই আবার একই কাজ করে। দেখভালের দায়িত্ব দপ্তরের হলেও তারা দেখেও না দেখার ভান করে। আসলে এখানে ‘পুকুর চুরি’ হচ্ছে। শুধু ঠিকাদার নয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লোকজনও জড়িত।”
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ঘাটপাড় থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা। কাজটি শুরু হয় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এবং শেষ হওয়ার কথা ২০২৬ সালের মে মাসে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ।
এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদার আবুল হোসেনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, নিম্নমান মাল সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামসুল হুদা বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকাদারকে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। সে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার জন্য নিয়ে আসে আমরা সেগুলো আবার উঠিয়ে নেয়। লস কার হলো? লস তো তার হচ্ছে। খারাপ কাজ করে বিল নিয়ে যাবে এই সুযোগ নেই।”
ক্রাইম ওয়াচ ২৪ বিডি ডেস্ক 










