০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ডিনের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করলেন কুবি শিক্ষক

‎আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ডিনের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করলেন কুবি শিক্ষক


‎কুবি প্রতিনিধি:

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কলা ও মানবিক অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ডিন নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

‎বুধবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎জানা যায়, গত ১২ মে তিনি রেজিস্ট্রার বরাবর এক চিঠি পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় ডিন নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্বান্ত গ্রহণে অস্পষ্টতা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-২০০৬ মোতাবেক কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন নিয়োগ বিধি বর্হিভূত মনে করায় উক্ত পদে দায়িত্ব গ্রহণে বিব্রত ও অপারগত প্রকাশ করছেন তিনি।

‎অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, ‘ডিন নিয়োগে যে বিধি রয়েছে, সে বিধি মোতাবেক ডিন নিয়োগ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চাইলে একক বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে সেটি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রেক্ষাপটে হতে হয়। কিন্তু কোন প্রেক্ষাপটে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়নি। যদি একক ক্ষমতাবলে ডিন নিয়োগ দেওয়া হতো, তাহলে আইনের কোন ধারায় এবং কোন প্রেক্ষাপটে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেটি উল্লেখ থাকা উচিত ছিল।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং গত ১৩ মার্চ ডিনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় একটি বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। তখন তো একক ক্ষমতাবলে ডিন পরিবর্তন করা হয়নি। এখন কোন উদ্দেশ্যে এটি করা হলো, তা বোধগম্য নয়। সিন্ডিকেটে যেখানে আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে ডিন নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেখানে কোনো আইন বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছামতো, কোনো প্রেক্ষাপট উল্লেখ না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কীভাবে ডিন নিয়োগ দেওয়া হলো। এ কারণে আমি বিষয়টি নিয়ে বিব্রত এবং দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছি।’


‎রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি চিঠি পেয়েছি। ওনি যেহেতু দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে তাহলে আমাদের আরেকজনকে দায়িত্ব দিতে হবে, কিছু করার নেই।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘ওনি যে আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছে এখানে সেই আইন অনুযায়ী তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় নাই। ডিন নিয়োগ নিয়ে করা মামলার সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত ভিসি স্যার তার একক ক্ষমতাবলে তাদেরকে অন্তর্বর্তিকালীন সাময়িক সময়ের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন৷ আইন বিশেষজ্ঞের মতামত আসলে সেই অনুযায়ী নতুন করে ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে৷’

‎উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, ‘এটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গভাবে ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে। আপাতত কিছু দিনের জন্য তাদের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি আইন মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে।’


‎প্রসঙ্গত, গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমকে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়।

‎অমি দেব
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
০১৬০৩৯২৪০৮৪

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!
ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে শতাধিক গরুকে এলএসডি ভ্যাকসিন প্রদান, খামারিদের নিয়ে উঠান বৈঠক

‎আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ডিনের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করলেন কুবি শিক্ষক

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:১৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

‎আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ডিনের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান করলেন কুবি শিক্ষক


‎কুবি প্রতিনিধি:

‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কলা ও মানবিক অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ডিন নিয়োগ না দেওয়ার অভিযোগ তুলে দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

‎বুধবার (১৩ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎জানা যায়, গত ১২ মে তিনি রেজিস্ট্রার বরাবর এক চিঠি পাঠিয়ে দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১০৯তম সিন্ডিকেট সভায় ডিন নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্বান্ত গ্রহণে অস্পষ্টতা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন-২০০৬ মোতাবেক কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন নিয়োগ বিধি বর্হিভূত মনে করায় উক্ত পদে দায়িত্ব গ্রহণে বিব্রত ও অপারগত প্রকাশ করছেন তিনি।

‎অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, ‘ডিন নিয়োগে যে বিধি রয়েছে, সে বিধি মোতাবেক ডিন নিয়োগ হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চাইলে একক বিশেষ ক্ষমতাবলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে সেটি সুনির্দিষ্ট কোনো প্রেক্ষাপটে হতে হয়। কিন্তু কোন প্রেক্ষাপটে ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়নি। যদি একক ক্ষমতাবলে ডিন নিয়োগ দেওয়া হতো, তাহলে আইনের কোন ধারায় এবং কোন প্রেক্ষাপটে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, সেটি উল্লেখ থাকা উচিত ছিল।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের পরবর্তী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং গত ১৩ মার্চ ডিনদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় একটি বিশেষ পরিস্থিতি ছিল। তখন তো একক ক্ষমতাবলে ডিন পরিবর্তন করা হয়নি। এখন কোন উদ্দেশ্যে এটি করা হলো, তা বোধগম্য নয়। সিন্ডিকেটে যেখানে আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে ডিন নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেখানে কোনো আইন বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছামতো, কোনো প্রেক্ষাপট উল্লেখ না করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কীভাবে ডিন নিয়োগ দেওয়া হলো। এ কারণে আমি বিষয়টি নিয়ে বিব্রত এবং দায়িত্ব গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেছি।’


‎রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি চিঠি পেয়েছি। ওনি যেহেতু দায়িত্ব পালন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে তাহলে আমাদের আরেকজনকে দায়িত্ব দিতে হবে, কিছু করার নেই।’

‎তিনি আরও বলেন, ‘ওনি যে আইনের ব্যাখ্যা দিয়েছে এখানে সেই আইন অনুযায়ী তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় নাই। ডিন নিয়োগ নিয়ে করা মামলার সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত ভিসি স্যার তার একক ক্ষমতাবলে তাদেরকে অন্তর্বর্তিকালীন সাময়িক সময়ের জন্য দায়িত্ব দিয়েছেন৷ আইন বিশেষজ্ঞের মতামত আসলে সেই অনুযায়ী নতুন করে ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে৷’

‎উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, ‘এটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আইন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গভাবে ডিন নিয়োগ দেওয়া হবে। আপাতত কিছু দিনের জন্য তাদের অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি আইন মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে।’


‎প্রসঙ্গত, গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমকে কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন নিয়োগ দেওয়া হয়।

‎অমি দেব
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
০১৬০৩৯২৪০৮৪

Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!