জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রদর্শিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক তথ্যচিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ ও অবদান যথাযথভাবে উপস্থাপন না করায় সৃষ্ট বিতর্কের প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রদর্শিত তথ্যচিত্রটির বিষয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরিমার্জন শেষে সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ে এটি পুনরায় জনসমক্ষে উন্মুক্ত করা হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে নির্ভুল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও তথ্যভিত্তিকভাবে সংরক্ষণে মন্ত্রণালয় অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তথ্যচিত্র বা অন্য কোনো বিষয়ে অভিযোগ জানানোর অধিকার যেকোনো নাগরিকের রয়েছে, তবে তা পরিশীলিত ও নিয়মতান্ত্রিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, বিদেশি কূটনিতিবিদ, গণমাধ্যম ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে গোলযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় মনে করে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বানচাল করার প্রয়াস ছিল কি না, সেটিও বিবেচনার দাবি রাখে। এ ধরনের প্রতিবাদ ভিন্নভাবে করার সুযোগ থাকলেও তা না করে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যার কারণে আমন্ত্রিত শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধারা মানসিকভাবে আহত হয়েছেন, যা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমেও প্রকাশ পেয়েছে।
এছাড়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে, তা রাষ্ট্রের জন্য সম্মানহানিকর এবং গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয়কর বলে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে। মন্ত্রণালয় এ ধরনের বিভ্রান্তিমূলক ও সম্মানহানিকর অপতথ্য ছড়ানো থেকে সংশ্লিষ্ট সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, এসব কর্মকাণ্ড দেশকে অস্থিতিশীল করে পুনরায় ফ্যাসিবাদের কবলে ঠেলে দেওয়ার শামিল। তাই এ ধরনের হঠকারী, রাষ্ট্রবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জাতিকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।