বরিশাল নগরী এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতির কারণে জনজীবন চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই হাজারো পরিবারের মনে শঙ্কা তৈরি হয়, কখন বিদ্যুৎ চলে যাবে। রাতের খাবারের প্রস্তুতি, শিশুদের পড়াশোনা, অসুস্থ মানুষের বিশ্রাম এবং ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম—সবকিছুই এখন বিদ্যুতের অনিশ্চিত আসা-যাওয়ার ওপর নির্ভর করছে। কোথাও আধা ঘণ্টা, কোথাও এক-দুই ঘণ্টা, আবার কোথাও গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে মানুষ।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ জানিয়েছেন, বরিশাল নগর ও জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮৫ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২২ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম হওয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে মুলাদী, হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায়। বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন এই তিন উপজেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা সবচেয়ে বেশি। সমিতির জেনারেল ম্যানেজার এ বি এম মিজানুর রহমান জানান, এই চার উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৫৬ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৪৬ মেগাওয়াটেরও কম। হিজলার বাসিন্দা আইয়ুব আলী জানান, পুরো রাতজুড়ে বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে।

নগরীর সিএন্ডবি রোড, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা, রূপাতলী, নথুল্লাবাদ, বিএম কলেজ, সদর রোডসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় সন্ধ্যার পর দফায় দফায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটছে। ওজোপাডিকো-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, তাদের এলাকায় চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ অর্থাৎ ৩০ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ওজোপাডিকো-২ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সাহেল রানা জানান, তাদের এলাকায় চাহিদার মাত্র ৬২ শতাংশ বা ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ফ্রিজে সংরক্ষিত খাদ্যপণ্য নষ্ট হচ্ছে এবং আইপিএস ব্যবহার করেও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার বিপুল কৃষ্ণ মণ্ডল জানান, বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া, উজিরপুর, গৌরনদী ও আগৈলখাড়ায় পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো, কারণ সেখানে ৫৬ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও এমন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।