নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার মৌখাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে অনিয়মের মাধ্যমে তিন কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বকুলকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ওই তিন কর্মচারীর নিয়োগ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, গণমাধ্যমে নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বকুল এবং তৎকালীন পরিচালনা কমিটি দুই দফায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে পেছনের তারিখ দেখিয়ে একটি কথিত নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন অফিস সহকারী নাজমুল হক, নিরাপত্তাকর্মী জুবায়ের কাজী এবং নৈশপ্রহরী রুবেল হোসেন। তারা ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল বিদ্যালয়ে যোগদানের পর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়োগ বোর্ড গঠন না করা, পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ, প্রায় ৪০ লাখ টাকা লেনদেন এবং ডিজির প্রতিনিধি ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
অভিযোগ তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে প্রতিবেদন জমা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন অ্যাডহক কমিটি প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং ওই তিন কর্মচারীর বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও হাজিরা বন্ধ করে দেয়। পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি গঠনের পর তাদের প্রথম সভায় প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বকুলকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত এবং ওই তিন কর্মচারীর নিয়োগ বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বকুল জানিয়েছেন যে তিনি বরখাস্তের চিঠি পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে তার কোনো মন্তব্য নেই।