রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পালটা-পালটি হামলা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইউক্রেনের দাবি, গত ৪০ দিনের ধারাবাহিক অভিযানে তারা রাশিয়ার ১৪টি তেল শোধনাগার, একাধিক তেল ডিপো ও লোডিং টার্মিনাল, ১৪টি সামরিক বিমান এবং চারটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইউক্রেন রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর ইয়েকাতেরিনবার্গের একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার আগে কেন্দ্রটি খালি করে নেওয়া হলেও পরে সেখানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করছে—এমন অভিযোগ এনে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে ওয়াইল্ডবেরিজের একাধিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন, যদিও রাশিয়া ও প্রতিষ্ঠানটি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার পালটা হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ ড্রোন, কামান ও আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা বোমার হামলায় দুইজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। অঞ্চলটির গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা জানিয়েছেন, পাঁচটি জেলায় হামলা হয়েছে এবং মাত্র একদিন আগেই একই অঞ্চলে রুশ হামলায় আরও পাঁচজন নিহত হয়েছিলেন। শুক্রবার অঞ্চলটিতে অন্তত ৫০টি হামলা চালায় রুশ বাহিনী। একই দিনে খেরসনে একটি রুশ ‘মলনিয়া’ ড্রোন সড়কে চলন্ত গাড়িতে আঘাত করলে ৭৭ বছর বয়সি এক নারী নিহত হন। এছাড়া খারকিভে ক্লাস্টার গোলাবারুদের হামলায় দুইজন এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলে গোলাবর্ষণে আরও একজন নিহত হয়েছেন। খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে ২১টি বসতিতে হামলা চালানো হয়েছে, যাতে অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের একটি ড্রোন আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে দুইজন নিহত হয়েছেন বলে রুশপন্থি প্রশাসন দাবি করেছে।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার প্রথমবারের মতো সরকারি সফরে সার্বিয়া পৌঁছেছেন। তিনি জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র সার্বিয়ার সঙ্গে এই বৈঠক মস্কোর অসন্তোষের কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফতোগাজ জানিয়েছে, শুক্রবার ভোরে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে তাদের সাতটি তেল ও গ্যাস উৎপাদন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান সেরহি ফেদোরেঙ্কো অভিযোগ করেন, শীতের আগে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে অকার্যকর করে তুলতেই রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালাচ্ছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যবহৃত দুটি কার্গো জাহাজ এবং পিভদেননি বন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে সফল হামলা চালানো হয়েছে।