ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে অনেক স্বপ্ন নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন ফয়সাল। সেই আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত এই যুবক এখনো শরীরে সেই ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। ফ্যাসিবাদ পতনের দুবছর পার হয়ে গেলেও টাকার অভাবে আজও তার প্রয়োজনীয় অপারেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিলেও আর্থিক অনটন তার সুস্থতার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফয়সাল বলেন, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফতুল্লার পঞ্চবটি মোড় থেকে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে অন্যদের সঙ্গে তিনিও ফতুল্লার দিকে যাচ্ছিলেন। থানা গেটের সামনে পৌঁছামাত্র যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলীর নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে জখম করে। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে বাজারের ভেতরেই ফেলে রেখে চলে যায়। পরবর্তীতে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় ফিরলেও তার মাথায় চারটি এবং হাতে আটটি সেলাই রয়েছে।
শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি সরকারি স্বীকৃতি না পাওয়ার বেদনাও প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে ফয়সালকে। জন্ম নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতার কারণে তিনি সরকারি দপ্তরে জুলাইযোদ্ধা হিসেবে নাম নিবন্ধন করতে পারেননি। এর ফলে সরকারি গেজেটেও তার নাম ওঠেনি এবং তিনি কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা কিংবা চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফয়সালের অভিযোগ, আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত হওয়া অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ হলেও, তিনি আজও রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও সহযোগিতার বাইরে রয়ে গেছেন।