দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৭১ হাজার ৬৯৭ মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে জোরকদমে চলছে চারা রোপণের কাজ। টানা বৃষ্টি ও বন্যার ধকল কাটিয়ে নতুন স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় কৃষকরা। ইতিমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার সিংহভাগ জমিতে ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে খানসামা উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ১১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি জমিতেও দ্রুত গতিতে চাষাবাদ এগিয়ে চলছে। আলোকঝাড়ী, ভাবকী, ভেড়ভেড়ী, গোয়ালডিহি, আঙ্গারপাড়া ও খামারপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন কৃষকদের ব্যস্ততা তুঙ্গে। শ্রমিক সংকট থাকলেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাঠে কাজ করছেন অনেকে।
ছাতিয়ান গড় গ্রামের কৃষক জবেদ আলী জানান, এবার সঠিক সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় আমন চাষে বেশ সুবিধা হয়েছে। এতে সেচের খরচ কম লেগেছে এবং জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা রয়েছে। চারা রোপণ প্রায় শেষ পর্যায়ে জানিয়ে তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলন হবে। তবে সার ও শ্রমিকের বাড়তি খরচ নিয়ে তিনি কিছুটা চিন্তিত।
গোয়ালডিহি ইউনিয়নের কৃষক ওবায়দুর রহমান বলেন, আমন ধানই তাদের আয়ের প্রধান উৎস। তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাঠে কাজ করছেন। সময়মতো চারা রোপণ করতে পারলে ফলন ভালো হবে এবং ধানের ভালো দাম পেলে কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৩ হাজার ৫০০ জন কৃষককে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রত্যেক কৃষককে বিনামূল্যে ৫ কেজি ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার ও ১০ কেজি এমওপি (পটাশ) সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
খানসামা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আমাদের মাঠ কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কাজ করছেন। আবহাওয়া ঠিক থাকলে এ বছর উপজেলায় ৭১ হাজার ৬৯৭ মেট্রিক টন আমন ধান উৎপাদিত হবে বলে আশা করছি।