দেশীয় মিঠা পানির মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে হাওর, বিল, নদী ও জলাশয়গুলোতে বিশেষ অভয়াশ্রম গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, হাওর ও জলাভূমির বিভিন্ন এলাকায় বড় গর্ত ও খাঁড়ি তৈরি করে সেগুলো মা মাছের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে। মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে এসব স্থানে পাহারাদারের ব্যবস্থা থাকবে, যাতে কেউ সেখানে মাছ ধরতে না পারে।
শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে মন্ত্রী এসব কথা জানান। আগামী ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফর উপলক্ষে তিনি সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। এ সময় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের এমপি মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি মো. জালাল উদ্দিন, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা আফরোজ মারলিজ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী মৌসুম থেকেই এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বাজেটও নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, একসময় হাওর-বাওড় ও নদী থেকে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু বর্তমানে কৃষিতে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার এবং মা মাছের প্রজননক্ষেত্রগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে। আগে হাওরের বিভিন্ন ডোবা বা খাঁড়িতে মা মাছ আশ্রয় পেলেও এখন নির্বিচারে মাছ ধরার ফলে প্রজননের নিরাপদ স্থানগুলো হারিয়ে যাচ্ছে।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আরও বলেন, মা মাছের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা গেলে ডিমের পরিমাণ বাড়বে এবং পর্যায়ক্রমে দেশীয় মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। মূলত মা মাছের সংখ্যা বাড়লে ডিমের উৎপাদন বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাওরাঞ্চলে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।