তা’মীরুল মিল্লাতের ফকীহ ইব্রাহিম খলিল রচিত ‘নাসিহা’ কিতাবের মোড়ক উন্মোচন সম্পন্ন

​সাব্বির হোসাইন, গাজীপুর প্রতিনিধি

জীবনঘনিষ্ঠ নানা বিষয়কে হিজরি বর্ষপঞ্জির সাথে সমন্বয় করে লেখা ব্যতিক্রমী বই ‘নাসিহা’-র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তা‘মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গীর স্বনামধন্য মুহাদ্দিস ও ফকীহ মাওলানা ইব্রাহিম খলিল রচিত এই কিতাবটি ইতিমধ্যেই আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের পাঠকদের মাঝে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
​জমকালো এই মোড়ক উন্মোচন ৩ আগস্ট অত্র প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের অফিসে আয়োজিত হয়।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তা‘মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা টঙ্গীর সুযোগ্য অধ্যক্ষ ড. মাওলানা হেফজুর রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ মাওলানা মিজানুর রহমান, বালিকা শাখার উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সালমান ফারসি এবং প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা নূরুল হুদা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
​অনুষ্ঠানে বইটির গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে অধ্যক্ষ ড. মাওলানা হেফজুর রহমান বলেন, “ইসলাম জ্ঞানার্জনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। দেহের জন্য যেমন খাদ্য প্রয়োজন, তেমনি আত্মাকে জীবিত রাখতে ওহীর জ্ঞানের বিকল্প নেই। হিজরি মাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে দৈনন্দিন জীবনের নানা অনুষঙ্গ নিয়ে এমন ধারাবাহিক ও গোছানো সংকলনের শূন্যতা আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে ছিল। মাওলানা ইব্রাহিম খলিল রচিত চন্দ্রবর্ষের ৩৫৪ দিনের বিষয়ভিত্তিক আলোচনা সংবলিত ‘নাসিহা’ কিতাবটি সেই অভাব পূরণে উম্মাহর খেদমতে এক অনন্য সংযোজন।”
​‘নাসিহা’ কিতাবটিতে ইসলামের মৌলিক পাঁচ ভিত্তির পাশাপাশি তাওহীদ, শিরক, বিদআত, ইকামতে দ্বীন ও জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশুদ্ধ দলীলসহ সাবলীলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সাথে পরিবার গঠন, বিয়ে-শাদি, মোহরানা, সন্তান প্রতিপালন, পিতামাতা ও প্রতিবেশীর হক, শিক্ষকের মর্যাদা এবং অমুসলিমদের প্রতি আমানতদারিতার মতো সামাজিক বিষয়গুলোও চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে।
​বইটির মূল আকর্ষণ হলো—প্রতিদিন মাত্র এক পৃষ্ঠা বা ৭-৮ মিনিট সময় নিয়ে সাধারণ কিংবা মাদরাসা শিক্ষিত যেকোনো মুসলিম তার জীবনের প্রয়োজনীয় দ্বীনী জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। বিশেষ করে মসজিদের সম্মানিত ইমামগণ হিজরি তারিখ অনুযায়ী মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন একটি করে ‘নাসিহা’ পাঠ করে শুনালে দ্বীন প্রচার ও অনুশীলনে এক নতুন বিপ্লব ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
​প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সর্বস্তরের পাঠকদের বিপুল চাহিদার কারণে বইটি দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাই উপহার বা সৌজন্য কপির জন্য অপেক্ষা না করে আগ্রহী পাঠকদের দ্রুত কপি সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষে অতিথিবৃন্দ লেখকের এই অসামান্য মেহনত কবুল এবং কিতাবটিকে সকলের নাজাতের মাধ্যম হিসেবে কবুল করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে খাস দোয়া প্রার্থনা করেন।