জাতীয় পার্টির মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা এবি এম রুহুল আমিন হাওলাদার মন্তব্য করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারকে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কোনো সরকারকে সফলতা বা ব্যর্থতার মাপকাঠিতে বিচার করা বাস্তবসম্মত নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীলতা ফেরানো, অর্থনীতিকে সচল করা এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সরকারকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৯ অগাস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশানে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এখনই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর।
এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, বিগত দিনে একটি পার্লামেন্ট সাত মাসের বেশি স্থায়ী হয়নি। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে দেশের মানুষ এখন স্থিতিশীল একটি রাজনৈতিক পরিবেশ খুঁজছে। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাত্র পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। এই স্বল্প সময়ে সরকারের চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের ভুল-ত্রুটি থাকলে বিরোধী দল ও রাজনৈতিক দলগুলো অবশ্যই তা তুলে ধরবে, তবে সমালোচনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের স্বার্থ ও স্থিতিশীলতাকে বিবেচনায় রাখতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার জন্য এমন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত নয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করবে বা কোনো কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিদ্যমান সংঘাত, অবিশ্বাস ও প্রতিহিংসার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি। মানুষ যেমন নির্বাচন, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার চায়, তেমনি তারা নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশও প্রত্যাশা করে। এছাড়া সময়ের ব্যবধানে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো বিকল্প নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মতবিনিময় সভায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার মোঃ শাহজাহান, ফখরুল আহসান শাহজাদা, যুগ্ম মহাসচিব এস এম আল জুবায়ের, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জিয়াউর রহমান বিপুল, আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ সিরাজুল আরেফিন মাসুম, জহির উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, মাহবুবুর রহমান কামাল ও জাকির হোসেন মৃধাসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।