৩৪ কোটি টাকা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা দুর্নীতি মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লি.) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে আরও তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। রোববার ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এই সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তিরা হলেন আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও মোহাম্মদ মোদাচ্ছের হাসান, যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের সহকারী নিবন্ধক অন্তত কুমার পাল এবং ডিপোজিট অপারেশনসের এভিপি ও হেড অব সিআরএম মিদহাত আজিজ। এদিন মিদহাত আজিজের জেরা সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি দুই সাক্ষীর জেরা আগামী ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এই মামলায় মোট ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৯ জানুয়ারি একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছিল এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান ‘এ এম ট্রেডিং’-এর নামে ৩৪ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করে এবং ৯ সেপ্টেম্বর তা বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে এই অর্থ এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়।
গত বছরের ২ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক মামলাটি দায়ের করেন এবং তদন্ত শেষে ১৬ অক্টোবর তিনি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এই মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস, রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল, সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্না এবং মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে রয়েছেন এবং বাকিরা পলাতক।