বই হচ্ছে মানুষের বিচিত্র অভিজ্ঞতার সংরক্ষণাগার এবং জ্ঞানের এক অনন্য দলিল। বইয়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক চিরন্তন, যেখানে প্রতিটি বই যেন একেকটি জীবন্ত কণ্ঠস্বর হিসেবে কথা বলে। জ্ঞানচর্চার এই ধারাকে সমুন্নত রাখতে এবং বইয়ের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসাকে সম্মান জানাতে আজ ৯ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বইপ্রেমী দিবস (Book Lovers Day)।

এটি মূলত একটি অনানুষ্ঠানিক উৎসব। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট আর ডিজিটাল স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে মানুষকে কিছুটা দূরে সরিয়ে বই পড়ার অনাবিল আনন্দ উপভোগ করা এবং পাঠাভ্যাসকে পুনরায় চাঙ্গা করাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। কোনো সরকারি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি ছাড়াই কেবল বইয়ের প্রতি সাধারণ মানুষ ও লাইব্রেরিগুলোর ভালোবাসা থেকে এই দিনটি আজ বৈশ্বিক উদযাপনে রূপ নিয়েছে।

অনেকেই এই দিবসটিকে ইউনেস্কোর উদ্যোগে পালিত 'বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস'-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল পালিত হওয়া সেই আনুষ্ঠানিক দিবসটি ৯ আগস্টের অনানুষ্ঠানিক 'বইপ্রেমী দিবস' থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা: সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে বই পড়ার মানসিকতা এবং জ্ঞানার্জনের আগ্রহ বৃদ্ধি করা।বইয়ের দোকান ও লাইব্রেরির সান্নিধ্য: স্থানীয় লাইব্রেরি বা বইয়ের দোকানে গিয়ে নতুন নতুন বই খোঁজার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা।মানসিক প্রশান্তি: কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ দূর করতে সাহিত্য, কবিতা বা উপন্যাসের কাল্পনিক ও বাস্তব জগতে কিছু সময় কাটানো।শান্ত পরিবেশে পাঠ: কোলাহলমুক্ত কোনো শান্ত জায়গায় বসে নিজের পছন্দের বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাওয়া।বই বিনিময় উৎসব: বন্ধু, স্বজন বা সহপাঠীদের নিয়ে ছোট পরিসরে 'বই বিনিময়' (Book Swap) উৎসবের আয়োজন করা, যাতে একে অপরের বই পড়ার সুযোগ তৈরি হয়।বইয়ের ভুবন ঘুরে দেখা: কাছাকাছি কোনো ঐতিহ্যবাহী বইয়ের দোকান বা লাইব্রেরিতে গিয়ে নতুন কোনো লেখকের বইয়ের সন্ধান করা।এই দিনটির সুনির্দিষ্ট ইতিহাস বা এর সূচনার পেছনে সুনির্দিষ্টভাবে কার অবদান ছিল, তার কোনো ঐতিহাসিক দালিলিক প্রমাণ নেই। তবে ধারণা করা হয়, বই ও সাহিত্যের প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে কোনো ব্যক্তি বা সাহিত্যপ্রেমী গোষ্ঠী এই দিবসটির সূচনা করেছিলেন। বর্তমান যুগে প্রযুক্তির আধিপত্যের কারণে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস যখন কমতে শুরু করেছে, তখন এই বিশেষ দিনটির জনপ্রিয়তা ও প্রয়োজনীয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।