আসন্ন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম গতানুগতিক পদ্ধতিতেই পরিচালিত হবে। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম ও পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে এবারের পরীক্ষায় পাসের হার তুলনামূলক কম হওয়ায় দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, এবার প্রায় ১৩ লাখ ৬১ হাজার আসন খালি পড়ে থাকবে। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, আগের মতোই লটারি বা ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই শুধু জিপিএ এবং শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রমের ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম অনলাইনে জমা দিতে হয়। এরপর কোটা ও মেধা তালিকার ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পূর্ণ আলাদাভাবে সম্পন্ন হয়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ হাতেগোনা কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই কেন্দ্রীয় পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এই অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। গত বছর মোট আসনের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল, অর্থাৎ ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ আসন খালি ছিল। এ বছর পাসের হার আরও কমে যাওয়ায় শূন্য আসনের হার বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১০ আগস্ট ২০২৬ প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন পাস করেছে। অর্থাৎ প্রায় সাত লাখ শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। এই হিসাব অনুযায়ী, সব উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও ১৩ লাখ ৬১ হাজারের মতো আসন খালি থাকবে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উপলক্ষে আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি–সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য জানান ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান।.এসএসসি ও সমমানে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬, এগিয়ে ছাত্রীরা.সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, ভর্তি কার্যক্রম আগের মতোই।

সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতেও ভর্তি পরীক্ষা চালু হতে পারে কি না, তা নিয়ে আলোচনা ছিল।.১৩ লাখ ৬১ হাজারের মতো আসন খালি থাকবেসৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ২০২৫ সালে যত শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল তাদের তুলনায় ২০২৬ সালে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা কিছু বেশি শূন্য থাকবে।