যুক্তরাষ্ট্রের ইউটা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করার সময় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে এক পাইলট ও এক ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। দেশটির মধ্যাঞ্চলের রকি পর্বতমালা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে রিচফিল্ড শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে থ্রি ক্রিকস জলাধার এলাকায় সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’ মডেলের হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। এটি মূলত ‘ওয়াইডমাউথ টু’ দাবানলের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের কাছে ভূপাতিত হয়। হেলিকপ্টারটি ‘হেলিকপ্টার ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস’ নামের একটি কোম্পানির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের বন বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ করছিল।
ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (এনআইএফসি) ঘটনার ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পর শনিবার দুই আরোহীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে। সংস্থাটি জানায়, হেলিকপ্টারে থাকা দুই সদস্যই গুরুতর আহত হয়েছিলেন। খাড়া পাহাড়ি ঢাল ও তীব্র দাবানলের কারণে উদ্ধারকারীদের দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে শনিবার ধ্বংসাবশেষ থেকে নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
দাবানল পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করায় এনআইএফসি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইউটার গভর্নর স্পেন্সার কক্স দাবানল নিয়ন্ত্রণের এই কাজকে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক পেশা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
গত ২৭ জুলাই ফিসলেক জাতীয় বনে বজ্রপাত থেকে ওয়াইডমাউথ টু দাবানলের সূত্রপাত হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এটি চলতি বছরে ইউটার সবচেয়ে বড় দাবানলে পরিণত হতে পারে। শনিবার পর্যন্ত দাবানলের মাত্র ২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং আশপাশের বসতিগুলো এখনো হুমকির মুখে রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ইউটায় এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দাবানল। এর আগে জুনে কলোরাডো সীমান্তের কাছে নোলজ ও গোর দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় চারজন দমকলকর্মী প্রাণ হারান। এই ধারাবাহিক প্রাণহানি ও দাবানলের ঘটনা অগ্নিনির্বাপণ কর্মীদের চরম ঝুঁকির মুখে থাকা পরিস্থিতিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।