রাজধানীর বনানী থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে এই মামলায় তাকে নিয়মিত জামিন কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই জামিনের ফলে সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে থাকা সব কটি মামলার নিষ্পত্তি হওয়ায় তার কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকল না।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিমকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু এবং আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সায়লা শাজনীন শান্তা।

প্রসঙ্গত, এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০১১ সালের ১৭ মে অবসরে যান। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় প্রদান করেছিল, যার মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়। অবসরের পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তৎকালীন সরকার তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় তার মেয়াদ বাড়ানো হয়।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির নিজ বাসা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। ওইদিন রাতেই যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই বন্দি ছিলেন। তাকে মোট নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল, যার সবশেষটিতে আজ জামিন পেলেন তিনি।