রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলের নিঝনেকামস্ক শহরে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় রুশ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সোমবার রয়টার্স জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এটি অন্যতম বড় হামলার ঘটনা। এই হামলায় আরও অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর দাবি, মস্কো থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত তাতারস্তানের তানকো তেল শোধনাগার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তাতনেফটের মালিকানাধীন এই শোধনাগারে ড্রোন আঘাত হানার পর সেখানে তীব্র আগুন ধরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে শোধনাগারের ওপর দিয়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে।
এদিকে এই হামলাকে একটি 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড' হিসেবে আখ্যায়িত করে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছেন রাশিয়ার তদন্তকারীরা। তাদের অভিযোগ, ইউক্রেনীয় বাহিনী পরিকল্পিতভাবে আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। নিঝনেকামস্কের মেয়র টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানান, তাতারস্তানের প্রধান রুস্তম মিন্নিখানভ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তানকো তেল শোধনাগারটি এর আগেও ইউক্রেনের হামলার শিকার হয়েছিল। এর আগে গত জুনের শুরুর দিকেও সেখানে ড্রোন হামলা চালানো হয়। মূলত রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়াতে গত কয়েক মাস ধরে দেশটির বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোতে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন। এসব হামলার কারণে রাশিয়ার কিছু অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে, যা সামাল দিতে মস্কোকে বিদেশ থেকে জ্বালানি আমনারির পথ বেছে নিতে হয়েছে।
এর আগে গত রবিবারও রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ এনেছিল। ওই দিন ইউক্রেনের খারকিভে রুশ হামলায় তিনজন এবং রাশিয়ার বেলগোরোড অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত হন। তবে উভয় দেশই বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায় না।