কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১১১ জনে দাঁড়িয়েছে। গত সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা পড়ে আছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ১০৭ কিলোমিটার গভীরে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী বোগোটা পর্যন্ত অনুভূত হয়, যার ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল রিসারালদা প্রদেশে, যেখানে ৪২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনিও। এছাড়া ভায়েই দেল কাওকা প্রদেশে ২৭ জন, চোকো প্রদেশে ৪ জন, মানিসালেস শহরে ৩ জন এবং অ্যানতিওকিয়া প্রদেশে ১ জন নিহত হয়েছেন। কালি শহরে অন্তত ২৫টি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৮৭ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা, যিনি গত শুক্রবারই শপথ নিয়েছেন, এই পরিস্থিতিকে তার সরকারের প্রথম বড় সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি রাজধানী বোগোটায় জাতীয় দুর্যোগ সংস্থার কমান্ড পোস্ট থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ সংকটময় মুহূর্তে কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ভূমিকম্পের এই শক্তিশালী কম্পন প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলাতেও অনুভূত হয়েছে। ভেনেজুয়েলার তাচিরা রাজ্য ও বারকিসিমেতো শহরের বাসিন্দারাও কম্পন অনুভব করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।