জুলাই মাসে আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ সংক্রান্ত শেখ হাসিনার সঙ্গে ওবায়দুল কাদের ও হাছান মাহমুদের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই নতুন কল রেকর্ডগুলো ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ একই ব্যক্তিদের কথোপকথনের অডিও প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।

প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের কাছে এই অডিওগুলো উপস্থাপন করেন এবং এ সংক্রান্ত যুক্তি তুলে ধরেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের এই কথোপকথনের অনুলিপিও প্রদান করা হয়েছে।

দাখিলকৃত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ ও ২১ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের মধ্যে এই ফোনালাপগুলো হয়। ১৯ জুলাই দুপুর ২টা ৫৪ মিনিটের কথোপকথনে শেখ হাসিনা ও হাছান মাহমুদকে ‘পাল্টা আগুন’ দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে শোনা যায়। শেখ হাসিনা বলেন, ওরা আগুন দিয়ে পোড়ালে তাদের বাড়ি-গাড়ি পাবলিক দিয়ে পোড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, অন্য কিছু করে লাভ নেই, তোরাও পুড়াবি আয় আমরাও পুড়াব।

এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হাছান মাহমুদ একে ‘টিট ফর ট্যাট’ বলে সমর্থন জানান এবং গায়েবানা জানাজা শেষে মহল্লায় মহল্লায় যাওয়ার কথা বলেন। শেখ হাসিনা তখন তাকে সংশোধন করে যার যার এলাকায় যেতে বলেন এবং প্রতিটি সংসদ সদস্যকে ডেকে এলাকায় ‘প্রোটেকশন’ বা সুরক্ষার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।

একই ফোনালাপে ওবায়দুল কাদের যুক্ত হলে শেখ হাসিনা তাকে সেতু ভবনে আগুন দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে সেখানে র‍্যাব পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া তিনি আন্দোলনকারীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করে সেখানেও পাবলিক দিয়ে আগুন দেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ এবং সহিংসতার দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানোর বিষয়েও অডিও ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে।