সোমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ঝালকাঠি জেলায় ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অকৃতকার্য হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চারটি দাখিল মাদরাসা ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এই ছয়টি প্রতিষ্ঠানে মোট ৯১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যাদের মধ্যে একজনও পাস করতে পারেননি।

ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি সদর উপজেলার মোস্তফাবাদ কাসেমিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৩ জন, সাওরাকাঠি নব আদর্শ সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল থেকে ৭ জন এবং বানাই রাবেয়া বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এছাড়া কাঁঠালিয়া উপজেলার বাঁশবুনিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ২৫ জন, ঝোড়খালী দারুলহুদা গফুরিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ২৪ জন এবং দত্তের পশারিবুনিয়া দাখিল মাদরাসা থেকে ১৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন।

এই ছয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আরও দুটি প্রতিষ্ঠানে ফলাফল অত্যন্ত হতাশাজনক। রাজাপুর উপজেলার এসজিএস সেকেন্ডারি স্কুলের ১২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র একজন এবং নলছিটি উপজেলার পশ্চিম গোপালপুর হাইস্কুলের ১৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যেও মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটিতে নিয়মিত পাঠদান হয় না। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে এসে কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যান এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। স্থানীয়দের দাবি, এমপিওভুক্তির আশায় অনেক প্রতিষ্ঠান নামমাত্র কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া আগের বছরগুলোতেও এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল আশানুরূপ ছিল না বলে তারা জানান।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু ছাঈদ বলেন, জেলার কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রত্যন্ত গ্রামে অবস্থিত। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হওয়ায় অভিভাবকরা সন্তানদের সেখানে পাঠাতে আগ্রহী হন না, যার ফলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কম থাকে। তিনি আরও বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে কী কী করা যায়, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।