বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার অফিসকক্ষে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও কারিগরি সহায়তার ক্ষেত্র বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের মতো বিষয়গুলো স্থান পায়।
সুইডেনকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের মাধ্যমে দক্ষ ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে নতুন নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্ত্রী আরও জানান, সুইডেনসহ ইউরোপের বাজারে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। তাই কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ জোরদার এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সুইডেন সরকারের নিবিড় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
বৈঠকে সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গেই সুইডেনের 'দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কৌশল' রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ক্রমশ গভীর হচ্ছে এবং রেডিমেড গার্মেন্টস ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে সুইডিশ বিনিয়োগ বাড়ছে। তিনি জানান, বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশই শিক্ষার্থী।
অনিয়মিত অভিবাসন প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, অসাধু মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে কিছু নিরপরাধ মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মানবপাচার প্রতিরোধে মন্ত্রণালয় অত্যন্ত কঠোর ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং পাচারকারীদের প্রলোভনই এর মূল কারণ। এই সমস্যা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (IOM) সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী গণসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সুইডেন রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের কো-চেয়ার হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে বিষয়টি রাখতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ জানান। সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এবং রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করার সুইডিশ আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মিয়ানমারে সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান বলে পুনরায় মত দেন। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশস্থ সুইডিশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।