সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত ও বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। প্রায় ১৪ বছরের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের সময় হত্যা, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার দায়ে তাঁকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় বাশার আল-আসাদের ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকেও অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বাশার ও মাহের আল-আসাদ পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। বিচারক ফখর আল-দিন আল-আরিয়ান রায় পড়ার সময় উল্লেখ করেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও বিভিন্ন প্রমাণে এটি স্পষ্ট যে, যুদ্ধের সময় সংঘটিত এসব অপরাধের মূল নির্দেশদাতা ও সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিলেন বাশার আল-আসাদ। আদালত আরও জানায়, এসব অপরাধ সংঘটনে তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছিলেন।
একই মামলায় দক্ষিণ সিরিয়ার দেরা প্রদেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তার সাবেক প্রধান ও আসাদের চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ২০১১ সালে দেরায় বিক্ষোভকারী ও শিশুদের ওপর প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন চালানোর অভিযোগে গত বছরের জানুয়ারিতে তাঁকে আটক করা হয়েছিল। রায়ের সময় নাজিবকে আদালতে খাঁচার ভেতর বন্দীর পোশাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নাজিবের অপরাধের তালিকায় হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা এবং নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকা সিরীয় জনগণের জন্য এই রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, আসাদ সরকারের সময় সংঘটিত অপরাধে জড়িত অন্যদের বিচারের ক্ষেত্রেও এই রায় একটি আইনি নজির হিসেবে কাজ করতে পারে।