জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করলে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। দলীয় চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত শনিবার তিনি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য লিখিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। আজ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলীয়ভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানা গেছে। ফলে সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই হচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি।
মির্জা ফখরুল যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন, তবে তাঁকে দলের মহাসচিব ও সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের ভেতর ও বাইরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর মির্জা ফখরুল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান এবং পরে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে প্রথমে মির্জা ফখরুলের মতো রিজভীকেও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হতে পারে। এরপর কাউন্সিলে তাকে ভারমুক্ত করা হতে পারে।
মহাসচিব পদের জন্য আলোচনায় থাকা চার নেতার মধ্যে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁদের প্রত্যেকেই ছাত্রদলের সাবেক নেতা এবং জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।
সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ প্রভাব এবং তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিতি তাঁকে এই দৌড়ে এগিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কূটনৈতিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সাংগঠনিক দক্ষতা ও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতাও দলের নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় রয়েছে।
তবে নেতা-কর্মীদের মধ্যে রুহুল কবির রিজভীর জনপ্রিয়তা ও ত্যাগের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত। দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি, মামলা-হামলা মোকাবিলা এবং দলের দুঃসময়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন তাঁকে তৃণমূলের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছে। রুহুল কবির রিজভী নিজেই জানিয়েছেন, দলের প্রতি তিনি শতভাগ আনুগত্য প্রকাশ করে কাজ করছেন এবং দলের চেয়ারপারসন ও নীতিনির্ধারকরাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘসময় ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলন, রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং সাংগঠনিক ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয়নি। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সাতজন নেতা বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে রিজভীর নাম সামনে এলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে তারেক রহমানের ওপরই।