তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিন ধরে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নসহ সুবিদখালী সদর এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকায় শিশু, শিক্ষার্থী ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ভোগান্তি বর্ণনাতীত।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সূর্যাস্তের পর থেকে ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমে ঘরের ভেতরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে, ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে বা ঘরের বাইরে সময় পার করছেন। রাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমের চরম ব্যাঘাত ঘটছে, যার প্রভাব পড়ছে মানুষের কর্মক্ষমতার ওপর।

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ও অর্থনীতিতেও। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। কম্পিউটার কম্পোজ, ওয়েল্ডিং কারখানা, আইসক্রিম বা কুলিং কর্নারের মতো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুৎ না থাকায় দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। জেনারেটর ব্যবহারের সক্ষমতা অনেকেরই নেই, আর যারা চালাচ্ছেন, তাদের অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ গুনতে গিয়ে লোকসান গুণতে হচ্ছে।

সুবিদখালী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাওলানা মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, “দিনে-রাতে মিলিয়ে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। গরমে দোকানে বসে থাকাই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আইপিএস বা জেনারেটর চালানোর মতো আর্থিক সংগতি নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ব্যবসায়ীরা পথে বসার উপক্রম হবে।”

এই পরিস্থিতির বিষয়ে মির্জাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) পলক সাহা জানান, বর্তমানে মির্জাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অধীনে প্রায় ৪৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে বিশাল পার্থক্যের কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে গ্রাহকদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

এদিকে সচেতন মহলের মতে, সরকারি পর্যায় থেকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন দিনগুলোতে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত এই বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।