বাংলাদেশসহ ১৭টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে ২০০ কোটি ডলারের এক বিশাল মানবিক সহায়তা প্যাকেজ। এই তহবিল জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে বিতরণ করা হবে, যার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা।

এই উদ্যোগটি জাতিসংঘের কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সংস্কারের একটি অংশ। যদিও এই নতুন পদ্ধতি নিয়ে মানবিক সহায়তা কর্মীরা কিছুটা উদ্বেগে আছেন, তাঁদের আশঙ্কা, এর ফলে কিছু কর্মসূচি ও সেবায় কাটছাঁট হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এটি কম খরচে আরও ফলপ্রসূ সহায়তা নিশ্চিত করবে।
প্রাথমিকভাবে যারা এই সহায়তা পাবে:
* বাংলাদেশ 🇧🇩
* কঙ্গো 🇨🇩
* হাইতি 🇭🇹
* সিরিয়া 🇸🇾
* ইউক্রেন 🇺🇦
আফগানিস্তান এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মতো কিছু দেশ এই তালিকায় না থাকলেও, গাজা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার আওতায় আলাদা তহবিল থেকে সহায়তা পাবে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, এই সংস্কারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করদাতাদের অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিতরণে যুক্তরাষ্ট্র আরও সমন্বিত নেতৃত্ব চায়।” এর ফলে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (OCHA) এবং এর প্রধান টম ফ্লেচার অর্থ বিতরণে মূল ভূমিকা পালন করবেন।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও জাপানের মতো ঐতিহ্যবাহী দাতারাও সহায়তা কমিয়ে সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার প্রেক্ষাপটে এক নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জাতিসংঘের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সহায়তা ১৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যার মধ্যে আট থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার ছিল স্বেচ্ছা অনুদান। সমালোচকরা মনে করছেন, পশ্চিমা দেশগুলোর সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত কোটি কোটি মানুষকে অনাহার ও বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকিতে ফেলছে।
এই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছে। ভবিষ্যতে এর ফলাফল কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।