যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর অবরোধের জেরে ইরানের প্রধান তেল ও গ্যাস রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ বর্তমানে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। পারস্য উপসাগরে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি দেশটির জ্বালানি বাণিজ্যের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৫ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপ দিয়ে ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত গ্যাসের প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশে রপ্তানি করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ১২ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ দিন ধরে খার্গ দ্বীপের তিনটি বড় টার্মিনালের কোনোটিতেই নতুন করে কোনো জ্বালানির চালান পৌঁছায়নি। আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের তথ্যমতে, গত ৩১ জুলাইয়ের পর থেকে দ্বীপটি থেকে নতুন কোনো তেল রপ্তানির চালানও আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো সম্ভব হয়নি। বর্তমানে দ্বীপের বন্দরে ১৭টি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার নোঙর করে আছে, যা অলস বসে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধের কারণে ইরানের তেল ও গ্যাস উত্তোলন এবং পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ এবং বিবিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটির প্রমাণিত তেলের মজুত প্রায় ২০৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ। তেল মজুতের দিক থেকে ইরান ভেনেজুয়েলা ও সৌদি আরবের পরেই তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
দেশটির অর্থনীতি মূলত তেল রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল এবং রপ্তানি করা তেলের সিংহভাগ অর্থাৎ ৯০ শতাংশই চীনে পাঠানো হয়। খার্গ দ্বীপ মূলত দেশের বিভিন্ন তেল ও গ্যাসক্ষেত্র থেকে সংগৃহীত জ্বালানি প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণের প্রধান কেন্দ্র। সেখান থেকেই ট্যাংকারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরু করলে তেহরান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে, যার ফলে খার্গ দ্বীপের বর্তমান এই সংকট তৈরি হয়েছে।