বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়া অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ১৫৩ রানে হারিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। ম্যাচটিতে ব্যাট ও বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন শেখ পারভেজ জীবন।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ১১ রানের মধ্যে জাওয়াদ আবরার (৫), ইকবাল হোসেন (০) ও রিজান হোসেনের (০) উইকেট হারিয়ে দল বিপদে পড়ে। এরপর শাহরিয়ার সাকিব ২১ রান করে ফিরে যান। পঞ্চম উইকেটে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও অধিনায়ক কালাম সিদ্দিকি এলিন ৪৯ রানের জুটি গড়ে বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এলিন রানআউটের শিকার হওয়ার আগে ৫৬ বলে ৩৪ রান করেন। ২৫ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১০৮ রান। সেখান থেকে আবদুল্লাহ ও আহরার আমিন পিয়ান ১০৯ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান। পিয়ান ৪ চার ও ৫ ছক্কায় ৬২ বলে ৬১ রান করে আউট হন। আবদুল্লাহ সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে ৯৪ রানে বোল্ড হন, তার ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ৪টি ছক্কা। শেষদিকে শেখ পারভেজ জীবন ১৮ বলে ৩৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ২টি চার ও ৩টি ছক্কা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে ২৯০ রান সংগ্রহ করে। মালয়েশিয়ার আরিফ উল্লাহ ৫৩ রানে ৪ উইকেট নেন।

২৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মালয়েশিয়া শুরু থেকেই চাপে ছিল। ষষ্ঠ ওভারে মাহফুজুর রহমান রাব্বি প্রথম উইকেট তুলে নেন। এরপর অফ স্পিনার শেখ পারভেজ জীবন ও লেগ স্পিনার স্বাধীন ইসলাম সফরকারী ব্যাটারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। দলীয় ৫০ রান হওয়ার আগেই মালয়েশিয়া ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে। ৭৬ রানে তারা অষ্টম উইকেট হারায়। নবম উইকেটে আহমেদ জুবাইদি জুলকিফলে ও সৈয়দ জুনায়েদ খান ৪৬ রানের জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। জুবাইদি ৬৬ বলে ৪২ রান করে জীবনের বলে এলবিডব্লিউ হন। এরপর জুনায়েদকে বোল্ড করে জীবন তার পাঁচ উইকেট শিকার পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়া ১৩৭ রানে অলআউট হয়। জীবন ৭.৫ ওভারে ১ মেডেনসহ ১৬ রানে ৫ উইকেট নেন। স্বাধীন ইসলাম ৯ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৩২ রানে ২ উইকেট এবং বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধা ২০ রানে ২ উইকেট শিকার করেন। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে শুক্রবার একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

সেখান থেকে বাকি ২৫ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে তারা যোগ করে ১৯২ রান।

১০৯ বলে ১০৩ রানের জুটি গড়েন এই দুই তরুণ বাঁহাতি ব্যাটার।