তীব্র দাবদাহের মধ্যে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে, যার ফলে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সারা দেশের শিল্প খাতে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং গ্যাসের চাপ না থাকায় ৩ থেকে ৪ হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ২-৩ ঘণ্টা গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বুধবার যুগান্তরকে জানিয়েছেন, তিতাসের বরাদ্দ অনুযায়ী বিদ্যুৎ ও শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতির উন্নতির জন্য উদ্যোগ নিয়েছে এবং শিগগির পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বুধবার জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বিদ্যুৎ খাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহের নির্দেশ দিয়ে কর্মকর্তাদের একাংশের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, তাদের কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছে না।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৌদি আরামকোর এলএনজিবাহী কার্গো সামিটের ভাসমান টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এক্সিলারেট এনার্জি একটি মাত্র বয়লার দিয়ে আংশিক এলএনজি সরবরাহ করছে, যার ফলে বুধবার এই দুই টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ আরও কমেছে। গত মঙ্গলবার এই দুটি টার্মিনাল থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও বুধবার জাতীয় গ্রিডে গেছে ৪৮ কোটি ঘনফুট। বুধবার সারা দেশে প্রায় ২০৯ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে, যার মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৮৮ থেকে ৯০ কোটি ঘনফুট, শিল্প খাতে ৮০ কোটি (আগে ১১০ কোটি পর্যন্ত দেওয়া হতো), সার খাতে ১৪ কোটি এবং অন্যান্য খাতে ২৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, সরকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত। ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে, এছাড়া চট্টগ্রাম ও খুলনায় ৭ ঘণ্টার বেশি এবং কুমিল্লায় ৬ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হচ্ছে। জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা ৬০ ভাগের বেশি এবং ময়মনসিংহ-১ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জোনাব আলী জানিয়েছেন ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই সংকটকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে, যার প্রেক্ষিতে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে সৈয়দপুর ও খুলনার ডিজেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হয়েছে এবং মেঘনাঘাট ৭০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রও উৎপাদনে ফিরেছে। তবে চাঁদপুর ও সিলেটের একটি করে ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। পিডিবি কর্মকর্তারা জানান, তারা এখনো ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের পুরো বরাদ্দ ব্যবহার করেননি, তবে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যথাসম্ভব সব বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।