মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ইরানি পরিকল্পনার খবর নিয়ে নতুন করে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তুরস্কের কর্মকর্তাদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা বা কূটনৈতিক আলোচনার পথ বাধাগ্রস্ত করতে ইসরাইলি গোয়েন্দারা এই ধরনের তথ্য সাজিয়ে থাকতে পারে।

গত মাসে তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় ট্রাম্পের বিমান 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-কে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা ছিল বলে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল। সেই সময় জানানো হয়েছিল, ইরানি অপারেটিভরা কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ট্রাম্পের বিমানকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, এই হুমকির কারণে ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের সময় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।

তবে তুর্কি কর্মকর্তাদের একাংশ এখন এই হুমকির তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যখন নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই এমন একটি হত্যাচেষ্টার খবর সামনে আনা হয়েছে। আঙ্কারার আশঙ্কা, ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি ও তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করে এই আলোচনার পথ বন্ধ করাই হয়তো ইসরাইলের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে অগ্রগতি হলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায় যে পরিবর্তন আসতে পারে, তা ইসরাইলের জন্য স্বস্তিকর না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আঙ্কারা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এই অভিযোগের সপক্ষে প্রকাশ্যে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইসরাইলও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে এমন কোনো বক্তব্য দেয়নি, যা তুরস্কের সন্দেহের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারে। ফলে বিষয়টি এখনো বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক সূত্রনির্ভর প্রতিবেদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানি হুমকির আশঙ্কাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিলেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তুরস্ক থেকে ট্রাম্পের যাত্রাপথ ও বিমান ব্যবস্থায় বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছিল বলেও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পকে হত্যার কথিত পরিকল্পনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে এই গোয়েন্দা তথ্যের পেছনে ইসরাইলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তুরস্কের সন্দেহ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতিটি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে।