ব্রাজিল সরকার ২০১২ সালে 'রিডেম্পশন থ্রু রিডিং' বা 'পড়ার মাধ্যমে মুক্তি' নামে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চালু করেছে। বিশ্বে কারাবন্দির সংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে থাকা দেশটিতে কারাগারের শোচনীয় অবস্থা, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি এবং বিভিন্ন গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্যের কারণে প্রায়ই দাঙ্গা-হাঙ্গামা লেগে থাকে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন, অপরাধ প্রবণতা হ্রাস এবং অপরাধীদের মধ্যে অনুশোচনা তৈরির লক্ষ্যেই মূলত এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় বন্দিরা প্রতিটি বই পড়ার বিনিময়ে তাদের সাজার মেয়াদ থেকে চার দিন করে কমাতে পারেন। একজন বন্দি বছরে সর্বোচ্চ ১২টি বই পড়ার সুযোগ পান, যার অর্থ প্রতি মাসে একটি বই পড়ে তিনি সর্বোচ্চ ৪৮ দিন পর্যন্ত সাজা কমাতে সক্ষম। প্রতিটি বই পড়ার জন্য বন্দিদের এক মাস সময় বরাদ্দ থাকে এবং বইটি শেষ করার পর তাদের একটি পর্যালোচনা বা আলোচনা লিখে জমা দিতে হয়। এই লেখায় বইয়ের মূল বিষয়বস্তু ও প্রিয় চরিত্রসহ নানা বিষয় উল্লেখ করতে হয়। একটি বিশেষ প্যানেল বন্দিদের এই লেখাগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখেন এবং কোনো ভুল থাকা চলবে না, মার্জিন টানা এবং লেখা সহজপাঠ্য হতে হবে।
এই কর্মসূচির শিক্ষক মারিলদা ডি পাওলা সোরেস জানান, তারা বিদেশি ও ব্রাজিলিয়ান ক্লাসিকসহ কিছু নির্বাচিত বইয়ের সংগ্রহ রেখেছেন, তবে হিংস্র বিষয়বস্তুর বই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দক্ষিণ ব্রাজিলের 'কাসা দে কাস্তোদিয়া দে পিরাকোয়ারা' কারাগারসহ মোট তিনটি ফেডারেল কারাগারে এই নিয়ম কার্যকর রয়েছে, যেখানে খুন, ধর্ষণ ও ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত প্রায় ৭ হাজার বন্দি আটক আছে।
সম্প্রতি ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর আইনজীবীরা অভ্যুত্থানচেষ্টার ষড়যন্ত্রে পাওয়া তার ২৭ বছরের কারাদণ্ড কমানোর জন্য এই বিধানটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন বলে খবর ছড়িয়েছে। এই উদ্যোগটি বন্দিদের সুপথে ফেরাতে পাঠচর্চার গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশেও এ ধরণের উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
বই প্রতি ৪ দিন থেকে সর্বাধিক ৪৮ দিন কমে বন্দির শাস্তির মেয়াদ।
যে বইটি তারা পড়ছেন তার মূল বিষয়, প্রিয় চরিত্র ইত্যাদি নানা বিষয়ে লেখা থাকে তাতে৷ তার ভিত্তিতে চলে পরীক্ষাও।