প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জোটের নেতারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে এই মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জোটের পক্ষ থেকে হামিদুর রহমান আজাদ জানান, অলি আহমদের প্রস্তাবক হিসেবে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি এবং সমর্থক হিসেবে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আল আমিন। জোটের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, প্রার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপিসহ কমিশনের চাওয়া সব তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাইয়ে অলি আহমদের মনোনয়ন বৈধ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জোটটি জানায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল একক প্রার্থী দিয়ে থাকে, ফলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় না। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর এবারই প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করে। জোটের নেতাদের ভাষ্য, তারা জিতবেন না হারবেন সেটি মুখ্য বিষয় নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচন তারা চান না। গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনাই তাদের এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করার কারণ হিসেবে বলা হয়, তিনি একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা, তিনবার মন্ত্রী ও ছয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা একজন উচ্চশিক্ষিত রাজনীতিক।

সংবাদ সম্মেলনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে সমালোচনা করে বক্তারা বলেন, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেয়ার সুযোগ থাকা উচিত। এছাড়া গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসির অভিযোগ তুলে তারা বলেন, তা বাস্তবায়িত হলে অলি আহমদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারতেন। একইসঙ্গে সচিবালয়ে রাজনৈতিক দলের শীর্ষ বৈঠকের যৌক্তিকতা নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা জালাল উদ্দিন, লেবার পার্টির ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতে ইসলামীর নুরুল ইসলাম বুলবুল, এলডিপির ডা. ওমর ফারুক, এবি পার্টির আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, জাকপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা মুফতি ফখরুল ইসলাম, নেজামে ইসলাম পার্টির আবদুল মজিদ আতহারীসহ জোটের বিভিন্ন সংসদ সদস্য ও নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।