দেশব্যাপী গ্যাস সরবরাহে চলমান সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হলগুলোতে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলের ডাইনিংয়ে মিল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে হলটির প্রায় পাঁচ শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী তীব্র খাবার সংকটের মুখে পড়েছেন। গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য গ্যাসনির্ভর হলের ডাইনিং কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, যেসব হলে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে খড়ি বা লাকড়ি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, সেখানে আপাতত ডাইনিং কার্যক্রম চালু রাখার চেষ্টা চলছে। তবে যে হলগুলোতে এমন কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেই, সেখানে গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘসময় বন্ধ থাকলে রান্না ও নিয়মিত মিল সরবরাহ অব্যাহত রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার জানান, পশ্চিমাঞ্চলের গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। চট্টগ্রামের এলপিজি টার্মিনাল-সংক্রান্ত জটিলতা এবং মহেশখালী গ্যাস সরবরাহ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এই সাময়িক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। যেহেতু এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের সমস্যা, তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে পারে।
অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার আরও বলেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে যেসব হলে বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে বাইরে চুলা স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে শিক্ষার্থীদের খাবারের সমস্যা না হয়। এদিকে, জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করায় আবাসিক ও সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের চাপ ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে জানা গেছে।
হঠাৎ ডাইনিং বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওমর জানান, কোনো পূর্ব নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই ডাইনিং বন্ধ করায় তাদের ভোগান্তি বেড়েছে। বাইরে থেকে খাবার কিনতে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে বিলম্ব হলে এসব বিকল্প ব্যবস্থা কতদিন কার্যকরভাবে চালু রাখা সম্ভব হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।হলটির আবাসিক শিক্ষার্থী ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো.