অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে তাদের বাড়িঘর অবৈধভাবে দখলে নিচ্ছে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা। অতি সম্প্রতি সেখানে তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবারের ঘরবাড়ি দখল করে নিয়েছে ইহুদি সেটেলাররা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের নিজেদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে তাদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে।

গত বুধবার দক্ষিণ নাবলুসের কুসরা গ্রামে ইসরাইলি সেটেলাররা একটি বাড়ি ঘিরে ফেলে, যার একটি ভিডিও ফুটেজও সামনে এসেছে। ওই বাড়ির ভেতরে আটকে পড়া বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, উগ্রপন্থী সেটেলারদের সরিয়ে দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। উচ্ছেদের আশঙ্কায় থাকা স্থানীয় বাসিন্দা আইশা আবু রিদা আল জাজিরাকে জানান, গত রবিবার থেকে এই দখলদারিত্বের সূচনা হয়। সেদিন প্রথমে দখলদাররা তার বাড়ির প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়।

আইশা আবু রিদা আরও জানান, সেটেলাররা তাদের চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে রাখলেও তারা নিজেদের বাড়ি ছেড়ে কোথাও যাবেন না বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইতিমধ্যে তাদের বাড়ির পানি ও বিদ্যুতের লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। এদিকে আনাদোলু এজেন্সির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুসরার মেয়রকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে রবিবার সকাল পর্যন্ত ওই এলাকায় তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আমেরিকার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের টলেডো থেকে লোয়াই রিদি নামে এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান আল জাজিরাকে জানান, কুসরা গ্রামে তার ভাই কুসাই আবু রিদা এবং ১৮ বছর বয়সী ভাগ্নে আহমেদ বর্তমানে ইসরাইলি সেটেলারদের হাতে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। চরম সংকটের মধ্যেও কুসাই তার পৈতৃক বাড়ি ছাড়তে রাজি নন, কারণ একবার সেখান থেকে বের হলে ইহুদি সেটেলাররা তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেবে। বর্তমানে তারা সামান্য পানি এবং অস্থায়ী সোলার পাওয়ার ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে টিকে আছেন। লোয়াই অভিযোগ করেন, এসব সেটেলারের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সেনারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

ইসরাইলি সেটেলমেন্ট ওয়াচডগ সংস্থা 'পিস নাও'-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিকৃত পশ্চিম তীরে বর্তমানে ১৪৬টি অবৈধ ইহুদি বসতি রয়েছে। এর পাশাপাশি সেখানে আরও ৩৯০টি ছোট আকারের অননুমোদিত সামরিক চৌকি গড়ে তুলেছে ইসরাইলিরা।