ব্যক্তিপর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, দ্রুত ও নিরাপদ করতে আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে চালু হতে যাচ্ছে ‘পার্সোনাল বাংলা কিউআর’। ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবের বিপরীতে তৈরি এই কিউআর কোড ব্যবহার করে গ্রাহকেরা সরাসরি এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে টাকা পাঠাতে পারবেন। এর ফলে দীর্ঘ ব্যাংক হিসাব নম্বর বা মোবাইল নম্বর টাইপ করার ঝামেলা দূর হবে এবং ভুল হিসাবে টাকা চলে যাওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে আসবে।
এতদিন মূলত বিভিন্ন দোকান থেকে কেনাকাটা ও সেবামূলক বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। নতুন এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনও এই প্রযুক্তির আওতায় আসছে। টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রাপকের ব্যাংক বা এমএফএস কোন প্রতিষ্ঠান, তা আলাদাভাবে জানার প্রয়োজন হবে না। যেকোনো সমর্থিত ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাপ দিয়ে কিউআর কোডটি স্ক্যান করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থের গন্তব্য নির্ধারিত হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি গ্রাহক নিজ নিজ ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপে একটি করে ব্যক্তিগত বাংলা কিউআর কোড পাবেন। লেনদেনের সময় প্রাপক তার মোবাইলের স্ক্রিনে এই কিউআর কোড প্রদর্শন করতে পারবেন। প্রয়োজনে এটি কাগজে প্রিন্ট বা লেমিনেট করেও রাখা যাবে। এমনকি দূরে থাকা কোনো ব্যক্তিকে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে কিউআরের ছবি বা স্ক্রিনশট অ্যাপের গ্যালারি থেকে আপলোড করে সহজেই লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে。
ভুল লেনদেনের ঝুঁকি এড়াতে কিউআর স্ক্যান বা ছবি আপলোড করার পর স্ক্রিনে প্রাপকের নাম ও সংক্ষিপ্ত হিসাব নম্বর দেখা যাবে। তথ্য যাচাইয়ের পর পিন (PIN) নম্বর দিয়ে লেনদেন সম্পন্ন করতে হবে। এই লেনদেনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। জালিয়াতি রোধে ব্যক্তিগত বাংলা কিউআরে পাবলিক কি ইনফ্রাস্ট্রাকচার (PKI) ও ডিজিটাল স্বাক্ষর যুক্ত থাকবে এবং পেমেন্ট সুইচের মাধ্যমে রিয়েল টাইমে তথ্য যাচাই করা হবে।
ব্যবসায়িক লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশব্যাপী বাধ্যতামূল করা হয়েছে। নতুন পিটুপি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি হিসেবে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্যাংক, এমএফএস, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) নিজ নিজ অ্যাপে কিউআর তৈরি, স্ক্যান ও গ্যালারি থেকে ছবি আপলোডের সুবিধা যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই নতুন কাঠামোর আওতায় দেশের বিপুলসংখ্যক ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব যুক্ত হবে, যা ছোট অঙ্কের লেনদেন সহজ করার পাশাপাশি ডিজিটাল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াবে। তবে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি সর্বোচ্চ ২,০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেনে বিশেষ নগদ প্রণোদনার কথা বলা হলেও এর হার বা সময়সীমা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (NPSB)-এর মাধ্যমে লেনদেন নিষ্পন্ন হবে।
নতুন P2P ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাংক, এমএফএস, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (PSP) ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে নিজ নিজ অ্যাপে কিউআর তৈরি, স্ক্যান ও গ্যালারি থেকে ছবি আপলোডের সুবিধা যুক্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।