বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাব্বানী খান ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনে ফরাসি নাগরিকদের ভোটে জয়ী হয়ে পৌর কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি প্যারিসের উত্তরাঞ্চলীয় শহরতলি সেন-সাঁ-দেনি বিভাগের স্টেইনস পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। মেয়র আজ্জেদিন তাইবির নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্যানেল থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি স্থানীয় নাগরিকদের সমস্যা, অধিকার ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন।

গাজীপুরের কাপাসিয়ার সন্তান রাব্বানী খান দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে বসবাস করছেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাজের পাশাপাশি অভিবাসীদের দৈনন্দিন নানা সমস্যা সমাধানে সহায়তা দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে বিদেশিদের অধিকার, নাগরিকত্ব, বসবাসের অনুমতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে তিনি প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেন।

নতুন অভিবাসীদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভাষাগত সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে রাব্বানী খান বিনামূল্যে ফরাসি ভাষা শেখার উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে অনেক প্রবাসী ফরাসি ভাষায় যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করছেন। এছাড়া ইমিগ্রেশন ও আইনি জটিলতায় পড়া প্রবাসীদের তিনি নিয়মিত তথ্য সহায়তা দিয়ে থাকেন। কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশিদের জন্য সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন।

রাব্বানী খান বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ফ্রান্সে কোনো বাংলাদেশি মারা গেলে মরদেহ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আর্থিক জটিলতা নিরসনে তিনি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ফ্রান্সে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সেতুবন্ধন তৈরিতেও তিনি বিভিন্ন আয়োজনে সহযোগিতা করেন। প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের বিভিন্ন কার্যক্রমেও তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহায়তা করে আসছেন।

স্থানীয় ফরাসি নাগরিকদের ভোটে একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তির জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়াকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির সামাজিক ও নাগরিক অংশগ্রহণের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তেমনি ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছেন।