ইরানকে বিশ্ব ইতিহাসে বিরল অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে ফেলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তেহরানের বিরুদ্ধে আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে নতুন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, এটি এমন এক ধরনের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা হবে, যা বিশ্ব আগে কখনও দেখেনি।
রক্ষণশীল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালীতে চলমান অবরোধের কারণে ইরানের কোনো বন্দর দিয়ে কোনো পণ্য প্রবেশ বা বের হতে দেওয়া হবে না। ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ মূলত দ্বিমুখী হবে। একদিকে দেশটির ওপর তীব্র আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হবে, অন্যদিকে তাদের বন্দরগুলোতে কার্যত অবরোধ আরোপ করা হবে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান অবশ্য তাঁর আগের মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। গত ৪ আগস্ট সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে কয়েক দিনের মধ্যেই একটি সমঝোতা হতে পারে। বেসেন্টের সেই নমনীয় বক্তব্যের পর ওয়াল স্ট্রিটের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল এবং বিশ্ববাজারে তেলের দামও কমেছিল।
এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন অগ্রাধিকারের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তিনি সম্প্রতি জানিয়েছেন, এই দ্বন্দ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো তাদের নিজেদের নাগরিকদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমানো। আর ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিকে দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।