ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের অবস্থান বেশ শক্ত করেছে সফরকারী বাংলাদেশ। প্রথম দিনের ১ উইকেটে ৯৬ রান নিয়ে খেলা শুরু করা টাইগাররা দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ৩৫১ রান তুলে। তরুণ ওপেনারের ঐতিহাসিক শতক এবং টপ-অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ইতোমধ্যেই ১৫৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিড নিজেদের ঝুলিতে পুরেছে সফরকারীরা।
দিনের বড় প্রাপ্তি ছিল ওপেনার তানজিদ হাসানের ব্যাট থেকে আসা টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং মুমিনুল হকের ৪৯ রানের দুটি ইনিংস বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়। তবে শেষ সেশনে নতুন বল হাতে নিয়ে অজি বোলাররা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। সেঞ্চুরির পথে থাকা শান্তকে ৮৪ রানে ফিরিয়ে ব্রেক-থ্রু এনে দেন জশ হ্যাজলউড। দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শান্ত যখন ফেরেন, তখন মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে তাঁর ৬৬ রানের জুটিটি ভেঙে যায়। শান্তর আউটের সময় দলের রান ছিল ২৯৭।
শান্ত বিদায় নেওয়ার পর ক্রিজে এসে থিতু হতে পারেননি লিটন দাস। মিচেল স্টার্কের বলে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১২ বল খেলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। লিটনের বিদায়ের পর দলীয় ৩০৮ রানে আউট হন মুশফিকুর রহিমও। প্যাট্রিক কামিন্সের বলে স্লিপে স্মিথের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে মুশফিক খেলেন ৫৫ বলে ৩৬ রানের ইনিংস। মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে এক সময় বেশ বিপাকে পড়েছিল বাংলাদেশ দল।
তবে সেই বিপর্যয় সামাল দিয়ে অজিদের ম্যাচে ফেরার সব চেষ্টা রুখে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। বল হাতে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া হাসান মাহমুদ এদিন ব্যাট হাতেও দারুণ প্রতিরোধ গড়েন। সপ্তম উইকেটে মিরাজের সঙ্গে ১৪৭ বল খেলে ৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিন পার করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত হাসান ৭৬ বলে ১৩ রানে এবং মিরাজ ৭৩ বলে৩২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন, যা দিন শেষে বাংলাদেশকে চালকের আসনে ধরে রেখেছে।
এদিকে শান্ত ফেরার পর ক্রিজে মুশফিকের সঙ্গী হন লিটন দাস। কিন্তু লিটন আউট হয়েছে রানের খাতা খোলার আগেই। ১২ বল খেলে ০ রানে আউট হন তিনি। মিচেল স্টার্কের বলে স্টিভ স্মিথের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফিরেন তিনি। ২৯৭ রানে শান্ত আউট হওয়ার পর ৩০৬ রানে আউট হন লিটন।