নির্বাচন কমিশনে একাধিক মনোনয়ন জমা হওয়ায় দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের পথে হাঁটছে দেশ। তবে এই নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীর নিশ্চিত পরাজয় জেনেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন, যার ফলে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীই নির্বাচিত হবেন।
অতীতে ১৯৯১ সালে সরকারি দল বিএনপির বিপরীতে আওয়ামী লীগ নিজেদের প্রার্থী দিয়েছিল, যা ছিল একাধিক প্রার্থী নিয়ে সর্বশেষ নির্বাচন। এরপর গত ৩৫ বছরে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও একক প্রার্থী থাকায় কোনো ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির ২৪৭ জন সংসদ সদস্য থাকায় দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় রয়েছে। এছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতায় সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান না, ফলে বিএনপি যাকে প্রার্থী করবে, তিনিই ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন—এটি মোটামুটি নিশ্চিত।
এমন প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা দেয় জামায়াত জোটের প্রতিনিধি দল। এ সময় জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, গণতন্ত্রকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচন না হওয়ার লক্ষ্যেই তারা অংশ নিয়েছেন। তিনি ৭০ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েও সমালোচনা করেন।
একই দিনে দুপুরে বিএনপির প্রতিনিধি দল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেয়। বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াত জোটের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তফশিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রত্যাহারের দিন ধার্য রয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোট শেষে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
বিশ্লেষকরা জামায়াতের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক কৌশল দেখছেন। অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, জামায়াত জানে তারা জিতবে না, কিন্তু একজন মুক্তিযোদ্ধাকে প্রার্থী করে তারা সাধারণ মানুষের কাছে একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক অবস্থানের জানান দেওয়া ও ভবিষ্যতের দরকষাকষিও তাদের লক্ষ্য হতে পারে। অন্যদিকে, লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঐকমত্যের ভিত্তিতে হওয়া উচিত ছিল, যা দুই পক্ষের মধ্যে সংলাপের অভাবকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।