রেকর্ড তাপপ্রবাহের মধ্যে ইউরোপের একাধিক দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত চরম পর্যায়ে রয়েছে বলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সে দাবানল সৃষ্টির সন্দেহে চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ৪৭৪ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের প্রায় ৭০ শতাংশের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ রয়েছে, বাকিদের বিরুদ্ধে রয়েছে অনিচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লঁদ বিভাগের লুগলঁ গ্রামে দাবানলের কারণে ৫২৫ জনের বেশি বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ১ হাজার ১০০ হেক্টর পাইনবন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ৫০০ জন দমকলকর্মী ও ছয়টি পানি ছোড়ার বিমান কাজ করছে। এর আগে জুলাই মাসে বোর্দো বিমানবন্দরের কাছে দাবানলে দুই দমকলকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে।
তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মহাদেশের প্রায় ১৫ কোটি মানুষ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে বাধ্য হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক পরিষেবা জানিয়েছে, দক্ষিণ ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, উত্তর ফ্রান্স এবং দক্ষিণ সুইডেনের কিছু এলাকায় দাবানলের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। রয়টার্স ক্লাইমেট মনিটরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পশ্চিম ইউরোপে দিনের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়ার পূর্বাভাস ছিল, যা ১৯৬১ থেকে ১৯৯০ সালের গড়ের তুলনায় ৮ ডিগ্রি বেশি। পুরো ইউরোপে তাপমাত্রা ওই সময়ের গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৬ ডিগ্রি বেশি ছিল।
জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে হুর্টগেন বনে দাবানলের কারণে ২ হাজারের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ থাকায় অগ্নিনির্বাপণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, ক্রোয়েশিয়ার ডালমাটিয়ান উপকূলে দাবানলে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং স্প্লিট শহরে ৩৬ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। স্পেনেও পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে; হুয়েলভা প্রদেশে ৩১ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৭০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সান হুয়ান দে লা পেনিয়া মঠ থেকে ঐতিহাসিক নিদর্শন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গ্রিসের হালকিডিকি উপদ্বীপে দাবানলের কবলে পড়া সৈকত থেকে ৫০০ পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যেও দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের ফায়ার সার্ভিসের প্রধান এটিকে তাদের মোকাবিলা করা সবচেয়ে বড় অগ্নিকাণ্ডগুলোর একটি বলে অভিহিত করেছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মাটি ও জলাধারের পানি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় দাবানলের ঝুঁকি ও তীব্রতা উভয়ই বৃদ্ধি পাচ্ছে।