দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার থেকে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা অর্থ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এই উদ্যোগের ফলে অবসর সুবিধা বোর্ডের প্রায় ৭০ হাজার এবং কল্যাণ ট্রাস্টের ৪৪ হাজারসহ মোট ১ লাখ ১৪ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তাদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা ফিরে পাবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার বিশেষ থোক বরাদ্দ প্রদান করেছে। এর মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবদুল খালেক জানান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চরম দুর্ভোগ লাঘব করতেই সরকার এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো ‘আইবাস’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে, যার ফলে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো সুযোগ থাকবে না। অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অবসরে যাওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় ৭০ হাজার ১১৫টি আবেদন নিষ্পত্তির পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে ৬ শতাংশ চাঁদা জমার ভিত্তিতে একজন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অবসর সুবিধা পেতে পারেন।
কল্যাণ ট্রাস্টের ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত জমা হওয়া প্রায় ৪৪ হাজার আবেদন নিষ্পত্তির কাজ চলমান রয়েছে। কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যাপক ইউসুফ আলী জানিয়েছেন, এই অর্থ পরিশোধে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটির দিনেও কাজ করছেন। তবে কল্যাণ ট্রাস্টে প্রতি মাসে গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা আয় হলেও বিপরীতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি নতুন আবেদন জমা পড়ায় অর্থের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। ট্রাস্টের তথ্যমতে, জমে থাকা সব আবেদন নিষ্পত্তি করতে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন।
সরকারের এই বিশেষ উদ্যোগে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটলেও, বর্তমান বরাদ্দের বাইরে থাকা আবেদনকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীরা ভবিষ্যতে আরও বড় বরাদ্দের মাধ্যমে পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।