যুক্তরাষ্ট্রে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূতের পদটি শূন্য হওয়ার পর থেকে তিনি যোগ্য ও প্রভাবশালী কোনো প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছেন না। এমনকি সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীও গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পালনে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের সাবেক রাষ্ট্রদূত ওলহা স্তেফানিশিনাকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই পদটি খালি রয়েছে। জেলেনস্কি চেয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া স্ভিরিদেনকোকে এই পদে নিয়োগ দিতে, কিন্তু স্ভিরিদেনকো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। জেলেনস্কি নিজেও এ বিষয়ে আগে জানিয়েছিলেন যে, তিনি স্ভিরিদেনকোর ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। রাষ্ট্রপ্রধানের প্রত্যাশা ছিল, ওয়াশিংটনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এমন কাউকে পাঠানো, যার উপ-প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে কাজ করার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা রয়েছে।
স্ভিরিদেনকোর অনাগ্রহের পর অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরাও দায়িত্ব নিতে খুব একটা আগ্রহী নন। ইউক্রেনের বিরোধী আইনপ্রণেতা ও সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ইভানা ক্লিমপুশ-ৎসিনৎসাদজে জানিয়েছেন, যথেষ্ট রাজনৈতিক প্রভাব ও অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও যোগ্য ব্যক্তিরা এই দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রে কাজের পরিবেশ এবং স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওয়াশিংটনে একজন শক্তিশালী রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি ইউক্রেনের জন্য জরুরি। তবে বিরোধী আইনপ্রণেতা ইয়ারোস্লাভ ইউরচিশিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত জেলেনস্কি নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগের সিদ্ধান্ত নাও নিতে পারেন। নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রার্থী বাছাই করা সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে যুদ্ধের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইউক্রেনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না, যা জেলেনস্কি সরকারের জন্য নতুন বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।