প্রায় চার দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে আবারো গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর শনিবার সকাল থেকে অধিকাংশ কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকায় যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কেটে যাওয়ায় শিল্পাঞ্চল জুড়ে আবারো কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক মো. রুহুল করিম চৌধুরী জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত থেকেই গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়েছে এবং শনিবার সকালের মধ্যে তা অনেকটা স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোনো বড় ধরনের কারিগরি জটিলতা না থাকলে শনিবারের মধ্যেই সরবরাহ পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিল্পকারখানার মালিকপক্ষ ও কর্মকর্তারা জানান, গত ২২ জুলাই থেকে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করার পর ১২ আগস্ট বুধবার থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে জেলার ১৭১টি শিল্পকারখানার সিংহভাগই উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়। এসএম স্পিনিংয়ের মহাব্যবস্থাপক মো. আবুল বাশার জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে গ্যাস আসা শুরু হয় এবং সকাল ৬টার দিকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে তারা কারখানা চালু করেন। স্কয়ার ডেনিম লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাজেদ হোসেন জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়ায় জেনারেটর চালু করে তারা উৎপাদন শুরু করেছেন।

দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফিরতে পেরে শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। শ্রমিক হাফিজুল ইসলাম ও মানিক মিয়া জানান, কারখানা বন্ধ থাকায় চাকরি হারানোর পাশাপাশি বেকার সময় কাটানো নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন। শিউলি আক্তার নামে আরেক শ্রমিক জানান, কারখানা চালু হওয়ায় সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ নিয়ে অনিশ্চয়তা কিছুটা কেটেছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই কারখানা বন্ধ থাকলেও শ্রমিকদের ছাঁটাই করেনি, কিছু জায়গায় কেবল সাময়িক ছুটি দেওয়া হয়েছিল।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, প্রায় ২০ দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ কম থাকার পর গত ১২ আগস্ট থেকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। এতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে, যার বড় একটি অংশ রপ্তানি আয়ের সঙ্গে যুক্ত। অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশি ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কায় ছিল। তবে গ্যাস কর্তৃপক্ষের দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহ পুনরায় চালু হওয়ায় শিল্প মালিক ও শ্রমিকরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন।