দেশের ৬৪ জেলার ৭০ হাজার ১১৯ জন বেসরকারি শিক্ষক-শিক্ষিকার অবসর ও কল্যাণ সুবিধার বকেয়া পাওনা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার এই অর্থ দীর্ঘ চার বছর পর ২০২২ সালের পরবর্তী বকেয়া পরিশোধের অংশ হিসেবে প্রদান করা হলো। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের নিজেদের জমানো ও প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে বছরের পর বছর দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে ভোগান্তির শিকার হওয়া কিংবা ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি এই অবস্থাকে একটি জাতির দীনতা ও হীনতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন। শিক্ষক সমাজ যেখানে সমাজকে নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দেন, সেখানে তাঁদেরই এমন হয়রানির শিকার হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বিগত পতিত ফ্যাসিবাদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, সে সময় ব্যাংক ও বীমা খাতের মতো শিক্ষকদের কল্যাণ ও অবসর সুবিধা তহবিল থেকেও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছিল। এমনকি ভুয়া ইনডেক্স তৈরি করে এই তহবিলগুলোকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়। তবে বর্তমান সরকার সব ধরনের প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো হয়রানি ছাড়াই শিক্ষকদের প্রাপ্য টাকা সরাসরি তাঁদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা উপবৃত্তি চালু এবং নারীশিক্ষার প্রসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার অসামান্য অবদানের কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।