আজ ১৫ই আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই দিনটিকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন। শনিবার দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে তিনি এই পোস্টটি শেয়ার করেন।
ড. আসিফ নজরুল তার পোস্টে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের পাশাপাশি তার শাসনামলের সমালোচনাও করেছেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর বহু কারণ আছে। আমি আগেও বলতাম, এখনো বিশ্বাস করি, উনার জন্ম না হলে অন্তত ১৯৭১ সালে আমাদের দেশ স্বাধীন হতো না। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে উনার অবদান অনস্বীকার্য ও অতুলনীয়। তিনি আমাদের স্বাধীনতার স্থপতি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের প্রতি বঙ্গবন্ধুর সুস্পষ্ট কমিটমেন্ট ছিল, যার প্রতিফলন ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বরের গণপরিষদের বিতর্কের দলিলেও পাওয়া যায়।
তবে দেশ পরিচালনায় বঙ্গবন্ধুর দক্ষতার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘১৯৭১-পরবর্তী বাংলাদেশ পরিচালনা করা নানা কারণে অত্যন্ত দুরূহ ছিল। কিন্তু এর কোনোটিই ১৯৭২ সাল থেকে তার ক্রমে ক্রমে আরও অত্যাচারী ও স্বৈরাচারী শাসকে পরিণত হওয়াকে জাস্টিফাই করে না। তার শাসনামলের দুর্ভিক্ষ, নির্বিচার হত্যা এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার বাস্তবতাকেও কোনো কিছু দিয়ে আড়াল করা যায় না।’
ড. আসিফ নজরুল শেখ হাসিনার শাসনামলকেও তার পোস্টে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘উনার কয়েক বছরের দুঃশাসনের স্মৃতি মনে রেখেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার জীবনব্যাপী অবদানের জন্য বহু মানুষ তাঁকে ভালোবাসতেন ও শ্রদ্ধা করতেন। আমি তাদের একজন। আমার মতো মানুষের জন্য এই ভালোবাসার প্রকাশকে কঠিন করে তোলে শেখ হাসিনার শাসনকাল। তার শাসন ছিল আইডেনটিটি-বেসড ফ্যাসিজমের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ। নিজের নিষ্ঠুর ও নিকৃষ্ট শাসনকে চাপিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি তার বাবাকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করেছেন। এটাই বঙ্গবন্ধুকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিপক্ষ করে তুলেছিল। বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে শেখ হাসিনার আমলে, অনেকটা তারই হাতে।’
সবশেষে তিনি ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করে লেখেন, ‘আজ বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যুর বার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে এক নির্মম হত্যাকাণ্ডে প্রায় গোটা পরিবারসহ প্রাণ হারান তিনি। বঙ্গবন্ধুর জন্য ভালোবাসা। দোয়া।’