নবম জাতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতনে কাটছাঁটের আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই শঙ্কার কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতন যদি আরও কমানো হয়, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

সংগঠনটির মতে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতনের বিপরীতে এই হারে বৃদ্ধি করলে তা ১৬ হাজার ৫০০ টাকায় দাঁড়ায়, যা কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি করেছে। অতীতে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির নজির থাকলেও বর্তমান প্রস্তাবটিকে অত্যন্ত অপর্যাপ্ত বলে মনে করছে সমিতি।

দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার পর নবম পে স্কেল আসার প্রক্রিয়া শুরু হলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি কর্মচারীদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। সমিতির দাবি, বেতন বাড়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে নতুন স্কেলে যে পরিমাণ বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, তা বর্তমান বাজারের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা চরম সংকটে পড়েছেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর সভায় কর্মচারীরা দুটি স্কেলের সমন্বয় করে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানিয়েছিলেন। অথচ তার পরিবর্তে ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ বেতন ১:৪ অনুপাতে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১ লাখ ৬০ হাজার করার সুপারিশ করায় বৈষম্যের নতুন স্তর তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও কমানো হলে সাধারণ কর্মচারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং তাদের মধ্যে অভাব ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।