বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে দেশজুড়ে মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া-মোনাজাত ও অসহায় দরিদ্রদের মাঝে অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সরকারপ্রধান এই মন্তব্য করেন।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের নীতিকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার শুধু বিদ্যুৎ খাতেই প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার দেনা রেখে গেছে। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে প্রাকৃতিক সম্পদের কোনো কূপ খনন না করে বরং এই খাতটিকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশের মাটিতে গ্যাস কূপ খননের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে নির্দেশ দিয়েছে, যাতে সম্পদের নিয়ন্ত্রণ দেশবাসীর হাতে থাকে।

গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে জাহাজে করে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকার গ্যাস সংরক্ষণের জন্য মাত্র দুটি স্টোরেজের ব্যবস্থা করেছিল এবং তাও করা হয়েছিল নিজেদের লোকজনের সুবিধার্থে। সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া একটি জাহাজের উদ্যোগ বাতিল করা এবং অপর একটি জাহাজে কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে।

সংকট নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে কারিগরি ত্রুটিগুলো সারিয়ে তোলা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই গ্যাসের সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের কষ্টের জন্য দেশের মানুষের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, মানুষকে এই সংকট থেকে দ্রুত মুক্তি দিতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই জনগণ এই পরিস্থিতি থেকে স্বস্তি ফিরে পাবে।

দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০ কোটি জনসংখ্যার একটি দেশে আমরা কখনো বলি না যে গত ৬ মাসে দেশের সকল উন্নয়ন করে ফেলেছি। এটি সম্ভব নয়, এটি অবাস্তব ব্যাপার। ফ্যাসিবাদী সরকার শুধু বিদ্যুৎ সেক্টরেই বিভিন্নভাবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার দেনা করে রেখে গেছে।’’