অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মো. সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের অনুসন্ধানে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের হয়রানিমূলক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এই প্রকৌশলী।
বিআইডব্লিউটিএ’র প্রকৌশলীদের মতে, সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে বহু নৌ-উন্নয়ন প্রকল্প সময়মতো ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অনমনীয় ছিলেন, যার ফলে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি রোধ হয়েছে এবং প্রকল্পের ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে। তার এই অবদান প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জানান, সাইদুর রহমান যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ফলে ঠিকাদারদের অযথা দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান প্রকৌশলীর মতে, সাইদুর রহমানের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন প্রকল্পগুলোতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও সময়সূচি মেনে চলার ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্য এসেছে। তিনি কখনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করেননি, যা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শৃঙ্খলা মজবুত করেছে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ের পথ সুগম করেছে। অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, একজন প্রকৌশলী যখন উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেন তখন তা শুধু প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো জাতির স্বার্থ রক্ষা করে। সাইদুর রহমানের কর্মকাণ্ড সেই আদর্শের প্রতিফলন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার আপোষহীন মনোভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা।
নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে মো. সাইদুর রহমান বলেন, উন্নয়ন কাজ মানে শুধু নির্মাণ নয়, এর সঙ্গে জনগণের অর্থের জবাবদিহিতা জড়িয়ে থাকে। তিনি সর্বদা চেষ্টা করেছেন যাতে কোনো অন্যায় বা অনিয়ম প্রকল্পকে কলুষিত করতে না পারে। মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধে সত্য প্রকাশ পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে তথ্য যাচাই করে প্রচারের অনুরোধ জানান। উল্লেখ্য, উন্নয়ন ও স্বচ্ছতায় নজির স্থাপন করা এই প্রকৌশলীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে ছদ্মনামে দুদকে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।