যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে এখনই শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। সেই আলোচনার কেন্দ্রে ক্রমেই উঠে আসছেন নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি)। ৩৬ বছর বয়সী এই প্রগতিশীল নেত্রী জাতীয় রাজনীতিতে বেশ প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট পদে তার লড়াই করার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়, তবে সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও জনপ্রিয়তা তাকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থিতার আলোচনাকে দিন দিন জোরালো করছে।

সম্প্রতি শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রকফেলার মেমোরিয়াল চ্যাপেলে দেওয়া এক বক্তব্যে ওকাসিও-কর্টেজ বলেন, তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা কোনো পদ বা আসন দখল করা নয়; বরং দেশকে পরিবর্তন করা। তার এই মন্তব্যের পর উপস্থিত শ্রোতারা ব্যাপক করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান, যা ২০২৮ সালের নির্বাচনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ওকাসিও-কর্টেজের জন্য অনুকূল হতে পারে। বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রবীণ নেতৃত্বের ওপর ভোটারদের একাংশের অনাস্থা এবং প্রগতিশীল এজেন্ডা যেমন অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের প্রতি জনগণের আগ্রহ তার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। জুলাই মাসে ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ারের একটি জরিপে সম্ভাব্য ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের তালিকায় তিনি এগিয়ে ছিলেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ওকাসিও-কর্টেজের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, যেখানে শুধু ইনস্টাগ্রামেই তার প্রায় এক কোটি অনুসারী রয়েছে। তার সমর্থকদের মধ্যে ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা (ডিএসএ)-এর মতো প্রগতিশীল সংগঠন থেকে শুরু করে ন্যান্সি পেলোসির মতো ডেমোক্রেটিক পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতারাও রয়েছেন। ডিএসএর কো-চেয়ার আশিক সিদ্দিকি জানান, ওকাসিও-কর্টেজ নির্বাচনে দাঁড়ালে তাদের সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হবে। তিনি মনে করেন, ২০২৮ সালের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে শ্রমজীবী মানুষের শক্তিশালী কণ্ঠ থাকা জরুরি।